সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

যুদ্ধের ডাক

  • আপলোড সময় : ১১-০৯-২০২৪ ০৩:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৯-২০২৪ ০৩:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন
যুদ্ধের ডাক
মোছাঃ মাহমুদা চৌধুরী রোজী:: আট বছরের হাসি-খুশি চঞ্চল মেয়ে খুশি। অবাধে ছুটে বেড়ায় পাড়াময়। বাধাহীন গ-ীহীন নিঃসঙ্কোচ পথচলা তার। ছমির মিয়ার মেয়ে খুশিকে সবাই এক নামে চেনে। ছোট-বড় সবাই তাকে ভালোবাসে, আদর করে। কখনো ফড়িং ধরে, কখনো প্রজাপতির পেছনে ছুটে চলে; কখনোবা বাবার সাথে গরুর গাড়িতে চেপে ক্ষেতে যায়। গরুর গাড়ি চড়তে তার খুব ভালো লাগে। পরিবারে তার মা-বাবা আর দাদী। হাসি আনন্দে কাটছে তাদের দিন। হঠাৎ একদিন ছমির মিয়া স্ত্রীকে ডেকে বলল- “বউ যুদ্ধ লেগে গেছে। শুনেছি ঢাকার অবস্থা খুব খারাপ। চারদিকে সাজ সাজ রব। আমাকে ও যুদ্ধে যেতে হবে।” যুদ্ধের কথা শুনে খুশির মা ভয়ে আঁতকে উঠে। সন্ধ্যার পর সবকিছু একেবারে নীরব নিস্তব্ধ। খুশি বাবার কাছে জানতে চায় কি হয়েছে? বাবা বলেন- মা রে যুদ্ধ শুরু হইছে। স্বাধীনতার যুদ্ধ। খুশি কিছু বুঝতে পারে না। শুধু বুঝতে পারে ভয়ানক ভয়াবহ কিছু একটা হয়েছে। পরদিন ভোরবেলা ছমির মিয়া মা-কে সালাম করে যুদ্ধে চলে যায়। তারপর একদিন খুব ভোরে বিকট শব্দে খুশির মা-দাদীর ঘুম ভেঙে যায়। জেগে উঠে খুশিও। ভয়ে মাকে আঁকড়ে ধরে। গুলির শব্দ। বাইরে অনেকগুলো বুটের আওয়াজ। হঠাৎ দরজায় লাথির শব্দ। তিনজন মানুষ ভয়ে গুটিসুটি মারে। দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী। লাথি মেরে ফেলে দেয় খুশি আর তার দাদীকে। ধরে নিয়ে যায় খুশির মাকে। খুশি চিৎকার করতে চায়। দাদী মুখ চেপে ধরেন সজোরে। খুশির মাকে নিয়ে ওরা চলে যায়। খুশির জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় হাসি-খুশি, চঞ্চল সোনালী দিন, নিঃশেষ হয়ে যায় সবকিছু নিমিষেই। খুশির দাদী চোখ মুছতে মুছতে খুশিকে নিয়ে অচেনা পথে পা বাড়ান। একদিন দেশ স্বাধীন হয়। রক্তের দামে বিজয় আসে। সবাই ঘরে ফিরে আসে। খুশিও দাদীর হাত ধরে বাড়ি ফিরে। ফিরে আসে না শুধু খুশির মা-বাবা। দাদী তাকে কোলে নিয়ে আদর করেন। সান্ত¡না দেন। বলেন, তোর মা-বাবা দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। তুই তাদের গর্বিত সন্তান। খুশি কি বুঝলো কে জানে। অস্ফুট স্বরে শুধু বলল- বাবা শহিদ! এই মাটি আমার মা....।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য